সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর উদ্যোগ বাস্তবায়নে আশাবাদী চীনের রাষ্ট্রদূত পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ১৫ মাস পর দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ : নিভেছে চুলা, কমেছে উৎপাদন, বেড়েছে লোডশেডিং সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হামের জিনগত পরিবর্তন হয়নি, আক্রান্ত বেশি ৯ মাসের নিচে- আইসিডিডিআর’বির অনুসন্ধান সরকারে আসছেন বলে কাউকে গরম দেখাবেন না- মির্জা ফখরুল জুলাইয়ে এলো ৩৫ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স অস্ট্রেলিয়ায় লেভেল-২ কোচিং কোর্স সম্পন্ন করলেন ইমরুল কায়েস ১২ কেজির এলপিজির দাম বাড়ল ৭০ টাকা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকার চারপাশে নৌপথ চালু নিয়ে সভা দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি নির্দেশনা,দেশ ছাড়তে প্রস্তুতি নিন বেশি দামে সার বিক্রি করলে লাইসেন্স বাতিল : কৃষিমন্ত্রী

বেশি দামে সার বিক্রি করলে লাইসেন্স বাতিল : কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দাম বেশি রাখলেই সারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। বন্যায় কৃষির ক্ষতি ঠেকাতে উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বন্যার ক্ষতি কমাতে হাওরাঞ্চলে আগাম জাতের বিরি-১১৮ জাতের ধান অবমুক্ত করা হবে। যে ধান আগে রোপন করে আগেই ফলন তোলা সম্ভব। তাই এই মৌসুমে ৩০ টন বীজ হাওরাঞ্চলে সরবরাহ করা হবে, পরের মৌসুমে যেন বীজের কোন সঙ্কট না হয়। এছাড়া স্যালাইন টলারেন্স জাতের ধান উপকূলীয় অঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে বৃষ্টিপাত বন্যা ও খরা হচ্ছে। তাই, আগামী মৌসুমে হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের জন্য ১১৮ জাতের নতুন ধানের বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০ টন বীজ বিতরণ করা হবে। নতুন উদ্ভাবিত এসব জাতের ধান শীতল আবহাওয়াতেও সহজে অঙ্কুরোদগম করতে সক্ষম হবে। ফলে প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা শীতের কারণে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে। একই সঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষকরা আরও সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি জমিতে লবনাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে। উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন জাতের ধানের বীজ উদ্ভাবনে সরকার কাজ করছে। এসব জাতের ধান লবণাক্ত পরিবেশেও ভালো ফলন দেবে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

মৎস্য খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, কুমিল্লায় মাছ বাজারজাতকরণকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে একটি স্থায়ী মাছের বাজার অথবা ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাছ চাষিদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাছের রেণু সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী বছরের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচির শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ সম্ভব হবে, যা কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় গরু ও ছাগলের জন্য সরকারি উদ্যোগে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি হারুন অধিদপ্তর খামার বাড়ির  সরেজমিন উইং এর পরিচালক মোঃ ওবায়দুর রহমান মন্ডল, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইং  এর পরিচালক  মোঃ রওশন আলম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের  যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারসহ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কুমিল্লা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর এবং সংস্থার কর্মকর্তারা।