শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
আমরা সবাই মিলে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী অবশেষে চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীতে ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ : ধর্মমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শব্দের আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ না লেখার সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন শুরু বিরোধী দলের নানা আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস ইউরোপে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি এশিয়া কাপ হকিতে জাপানের বিপক্ষে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ চট্টগ্রামের পাচারের উদ্দেশ্যে কার্গো বোটে স্থানান্তরের সময় ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ২ দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিমানবন্দরে সাত যাত্রীর ব্যাগে পাওয়া গেল সাড়ে ৩৮ লিটার বিদেশি মদ ভার‌তে ব্রিকস স‌ম্মেল‌নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না : হুমায়ুন কবির মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী অংশ গ্রহণ করতে পারবে অভিনয়ে অনন্য ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, ডিজিটাইজেশন জোরদার : কোম্পানি আইনে বড় সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, ডিজিটাইজেশন জোরদার এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪– এর বড় ধরণের সংশোধনী আনতে যাচ্ছে সরকার। আইনটির সার্বিক আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে মূলত পাঁচটি কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ব্যবসা পরিচালন প্রক্রিয়া সহজ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য দরজা কপাট উন্মুক্ত করা, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিত করা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং ব্যবসায়িক অঙ্গনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনীর ওপর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (তৃতীয় সংশোধন-২০২৬)’–শীর্ষক খসড়া প্রস্তাবটি বিশদভাবে উপস্থাপন করেন। সেখানে জানান হয়, আইনটিকে যুগের উপযোগী করতে মোট ৪০টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কিছু নতুন সংজ্ঞা যুক্ত করা হচ্ছে, একাধিক উপ-ধারা সংশোধন করা হচ্ছে এবং বেশ কিছু প্রশাসনিক বিধিতেও আনা হচ্ছে যুগোপযোগী পরিবর্তন।

প্রস্তাবিত সংশোধনের ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। এতদিন এক ব্যক্তি কোম্পানি বা ওপিসি গঠনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পরিশোধিত মূলধনের বাধ্যবাধকতা ২৫ লক্ষ টাকা থাকায় সাধারণ উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হতেন। সভায় উপস্থাপন করা প্রস্তাব অনুযায়ী, এই মূলধনের সীমা ৮০ শতাংশ কমিয়ে মাত্র পাঁচ লক্ষ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ টার্নওভারের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তাও পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে, যাতে স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসাকে সহজেই নিবন্ধিত কোম্পানির আওতায় নিয়ে আসতে পারেন।

প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা কাটাতেও নেওয়া হচ্ছে বড় পদক্ষেপ। এখন থেকে কোম্পানির সংঘস্মারক বা অবজেক্ট ক্লজ পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে না গিয়ে সরাসরি জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারের অনুমোদনের মাধ্যমেই তা সম্পাদন করা যাবে। এতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি বিচারিক প্রক্রিয়া, সময় ও আইনি খরচ অনেকাংশে বেঁচে যাবে। এছাড়া, যে–কোনো তথ্য বা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অস্পষ্ট মেয়াদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এখন থেকে কোম্পানির যাবতীয় রেজিস্টার বই কাগজের পাশাপাশি বা পুরোপুরি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংরক্ষণের আইনি স্বীকৃতি মিলবে। প্রতিটি কোম্পানির পরিচালক ও মালিকদের এনআইডি, পাসপোর্ট, টিন, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইলের তথ্য সরকারের সুরক্ষিত অনলাইন ডেটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে কোম্পানি আইনের অধীনে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর-কে আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত ও অগ্রসরমান অর্থনীতির আদলে এই নিয়ম যুক্ত করায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গতি আসবে।