শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
আমরা সবাই মিলে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী অবশেষে চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীতে ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ : ধর্মমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শব্দের আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ না লেখার সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন শুরু বিরোধী দলের নানা আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস ইউরোপে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি এশিয়া কাপ হকিতে জাপানের বিপক্ষে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ চট্টগ্রামের পাচারের উদ্দেশ্যে কার্গো বোটে স্থানান্তরের সময় ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ২ দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিমানবন্দরে সাত যাত্রীর ব্যাগে পাওয়া গেল সাড়ে ৩৮ লিটার বিদেশি মদ ভার‌তে ব্রিকস স‌ম্মেল‌নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না : হুমায়ুন কবির মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী অংশ গ্রহণ করতে পারবে অভিনয়ে অনন্য ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান

যৌথ অভিযান কুমিল্লার সুয়াগাজী বাজারে গুঁড়িয়ে দেয়া হল ২ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভেকু ও বুলডোজারের সাহায্যে একে একে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সোয়াগাজী উত্তর বাজারের ছোট-বড় প্রায় দুই শতাধিক স্থাপনা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয় এ উচ্ছেদ অভিযান। অভিযানে পাকা, আধাপাকা ও টিনশেডসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

এসব স্থাপনার মধ্যে ছিল মুদি দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ওয়ার্কশপ, মনিহারি দোকানসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সড়কের জায়গা ও ফুটপাত দখল করে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে সোয়াগাজী উত্তর বাজার এলাকায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বাজারের দুই পাশে সড়কের জায়গা দখল করে দোকানপাট বসায় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। এতে দুর্ভোগে পড়তেন স্থানীয় পরিবহন চালক, পথচারী, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও পুনরায় স্থাপনা গড়ে ওঠার ঘটনা দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করলেও কিছুদিন পর আবারও একই জায়গায় স্থাপনা গড়ে ওঠায় স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না। এবার একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্থাপনা উচ্ছেদ করায় সড়কের জায়গা ও ফুটপাত অনেকটাই দখলমুক্ত হয়েছে। এ উচ্ছেদের পর সড়কের জায়গা আর দখল হতে না দিলে সোয়াগাজী বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট ও পথচারীদের ভোগান্তি কমে আসবে।

তবে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, হঠাৎ করে অভিযান পরিচালনা করায় দোকানের মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি তারা। ফলে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ী মুখলেছুর রহমান বলেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব স্থাপনায় ব্যবসা করে আসছিলেন। উচ্ছেদ করা হবে জানলেও মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। ফলে দোকান ভাঙার সময় অনেক মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের দাবি, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট গড়ে ওঠায় বাজার এলাকায় প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকত। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তেন শিক্ষার্থী ও ক্রেতারা। দখলমুক্ত জায়গা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে বাজারের যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান বলেন, মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। জনস্বার্থে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের কারণে জনসাধারণের চলাচল ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। এর আগে একাধিকবার মাইকিং ও নোটিশের মাধ্যমে দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনা অনুযায়ী স্থাপনা না সরানোয় শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায় বলেন, দখলদারদের আগে থেকেই মাইকিং ও নোটিশের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল এবং স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। নির্দেশনা না মানায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।