মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদারে বাংলা‌দেশ-জাপান চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে যাবে ভারত-পাকিস্তানের ভাগ্য? এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন ‘কিং’-এর পোস্টারে শাহরুখের চমক, ‘ঘাতক নই, আমি প্রেমিক’ বর্তমান সরকার মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ব্রাজিলের সদ্য-সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ‘কারচুপিপূর্ণ’, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ : ট্রাম্প টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিয়ে যা ভাবছেন শান্ত ঢাকায় শুরু হচ্ছে ২০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে পর্যটন মেলা শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রায় ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে জাপান নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে থাকা অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী : তারো আসো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সারা দেশে র‍্যালি করবে বিএনপি সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ : আইজিপি

দেশে ২০২০ – ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৯৬৩ শিশুর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৯৫৮ শিশু নিহত হয়েছে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে ২ হাজার ১৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ ছিল পথচারী। পথচারী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৭১ জন নিহত হয়েছে থ্রি-হুইলারের ধাক্কায়। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপায় বা ধাক্কায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ শিশুর। এ ছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯৮ শিশু নিহত হয়েছে।

সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহত শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে, যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিকেলে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকালে নিহত হয়েছে ২ হাজার ১৬৮, দুপুরে ১ হাজার ৮১৩, রাতে ৫৯৮, সন্ধ্যায় ৫৪৬ এবং ভোরে ২০৪ শিশু।

বয়সভিত্তিক হিসাবে, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে ২ হাজার ৫১৩ শিশু নিহত হয়েছে। আর বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলার সময় প্রাণ গেছে ৯৬২ শিশুর।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা শিশুবান্ধব না হওয়া, নিরাপদে সড়ক ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেওয়া, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের যানবাহন চালানো এবং দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের চিকিৎসাসংকট মৃত্যুর হার বাড়ার অন্যতম কারণ।

সংস্থাটি বলছে, গ্রামীণ সড়কে বসতবাড়ির কাছাকাছি যানবাহন চলাচল করলেও অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না। এসব সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও সীমিত। ফলে শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা নিরাপদ করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা বাড়ানো, চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কের অব্যবস্থাপনার কারণে শিশুরা নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে, যা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।