শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
প্রেমের টানে ইউক্রেনের নারী কুমিল্লায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে কুমিল্লায় ডিবির অভিযানে দুইজন গ্রেফতার ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে ডেকে পুলিশের ওপর হামলা মনোহরগঞ্জে পিতার বসত ঘরে আগুন দিলো মাদকসেবি ছেলে শতবর্ষী সামিত্রী দাসের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিল আবুল হাসেম ফাউন্ডেশন রাজশাহীতে ৪০, ঢাকায় ৯০ টাকা—একই আমের দামে কেন এত ব্যবধান? বিকেলে ফখরুলের বক্তব্য, রাতে কারামুক্ত আইভী—প্রশ্ন তুললেন হানিফ ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্কের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে ৭ জুন খুলছে স্কুল-কলেজ স্থানান্তর হতে পারে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকার পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে : প্রধানমন্ত্রী

মরহুম মোবারক উল্লাহ মজুমদার ছিলেন : পরিশ্রম, মেধা, সাহসী ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

মোঃ আবুল খায়ের,( মনোহরগঞ্জ) কুমিল্লাঃ মরহুম মোবারক উল্লাহ মজুমদার একজন স্বপ্দ্রষ্টা, পরিশ্রমী, সাহসী, উদ্যোক্তা এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন কঠোর পরিশ্রমী ও মেধাবী। নিজের অধ্যবসায়, সততা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে তিনি গার্মেন্টস শিল্পে সফলতা অর্জন করেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন “মামটেক্স গ্রুপ”। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেছেন।

তার ব্যবসার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০% কর্মী মনোহরগঞ্জের তরুণ, যার ফলে এলাকার বেকার সমস্যা অনেকাংশে কমেছে। গ্রাম উন্নয়নে তার অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি সবসময় গ্রামের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। নরহরিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন। জায়গার সংকট দূর করে একটি পূর্ণাঙ্গ স্কুল এবং শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠ নির্মাণ করেন।

শিক্ষা খাতে তার অবদান আরও বিস্তৃত। তিনি পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি এবং শাহ শরীফ ডিগ্রি কলেজের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এছাড়া, গ্রামের মানুষকে ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আনতে তিনি ইসলামি ব্যাংকের একটি আউটলেট প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্থানীয়দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

তার জীবনের অন্যতম স্বপ্নের প্রকল্প ছিল একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা, যা তিনি তার মেয়ের নামে নামকরণ করেন। এই মাদ্রাসাটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই সফলতা অর্জন করে এবং এখান থেকে ১৮ জন হাফেজ বের হয়েছে। এতিম শিশুদের জন্য এখানে বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা তার মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি দেবপুর ঈদগাহ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এলাকার ধর্মীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রাজনৈতিক জীবনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে প্রস্তাবিত কমিটিতে শিল্প বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এছাড়া, তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক চারবারের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সবসময় দলের জন্য নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন এবং প্রয়াত এমপি কর্নেল আনোয়ারুল আজিমের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

তার মৃত্যুতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। লাকসাম, মনোহরগঞ্জ এবং দেবপুর গ্রামের প্রতিটি মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রিয় এই মানুষটির চলে যাওয়া যেন এক অপূরণীয় ক্ষতি—যার শূন্যতা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে। তিনি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, ছিলেন মানুষের বন্ধু, সমাজের একজন অভিভাবক।

সব মিলিয়ে, মোবারক উল্লাহ মজুমদার একজন সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি একজন সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার জীবন আমাদের অনুপ্রাণিত করে—নিজের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের কল্যাণে কাজ করাই প্রকৃত স্বার্থকতা। তার সামাজিক, ব্যবসায়ীক, শিক্ষার মানোন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক অবদানের জন্য মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে বেঁচে থাকবেন।

সর্বোপরি তিনি ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা তথা দেবপুর গ্রামে একজন মানবাধিকার হিতোপদেষ্টা। তিনি সমাজের অসহায় মানুষের মাঝে কাজ করতেন যাহা গোপনে ও নিরবে করতেন।