নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণে শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কারাগারটি শহরের বাইরে স্থানান্তরের লক্ষ্যে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে সাইট নির্বাচন করা হবে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কুমিল্লা সদরের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে কুমিল্লার রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় অবস্থিত কারাগারটি কয়েক কিলোমিটার দূরে গোমতী নদীর উত্তরে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কারাগারে নতুন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু হলে এ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংক রোড সংকুচিত করে এ প্রাচীর নির্মাণ হলে সড়কটিতে যাতায়াতে মানুষের দুভোর্গ বাড়ার শঙ্কায় কুমিল্লা সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের বাধার মুখে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়। এরপর থেকেই মূলত কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারাটি নগরীর ব্যস্ততম এলা থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া দাবি উঠে।
জানা গেছে, মঙ্গলবারের বৈঠকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের প্রাচীর পূর্ববর্তী স্থানেই নির্মাণ এবং কারাগারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন সদরের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, দৈনিক কুমিল্লার কাগজ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন, সময় টিভির সাংবাদিক বাহার উদ্দিন রায়হান, ব্যবসায়ী মাইনুল হাসান রিপন এবং এনসিপি নেতা মাসুমুল বারী কাউসার। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা-৬ (সদর আসনের) সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার ‘কুমিল্লা বাচাঁও মঞ্চ’ এবং কুমিল্লা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ভিপি ওয়াসিমের নেতৃত্বে কুমিল্লার প্রবীণ নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দসহ একটি বড় ডেলিগেশান আজ স্বরাষ্ট্র সচিবের সাথে বৈঠক করেছে। বিষয়বস্তু ছিলো কারাগার সীমানা বাড়ানো। আর আমাদের প্রস্তাব কারাগার অন্যত্র স্থানান্তর। এই বিষয়টি পুরনো; অনেকদিন যাবত কুমিল্লাবাসী এ নিয়ে দাবি জানিয়ে আসছে। আশার কথা হলো- সরকার আমাদের প্রতিপক্ষ পক্ষ হয়ে দাড়ায়নি।
সড়ক ঘেঁষে কারাগারে দেওয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ রেখেছে। ইতোমধ্যে আইজি প্রিজন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কয়েকবারই সবার সাথে দেখা করেছেন। আমি তাদেরকে স্পষ্ট করেছি আমার ব্যাপারটি ইনহেরিট (উত্তরাধিকার বা বংশানুক্রমিক পাওয়া)। স্থানীয় জনগনের আশা আকাংখার বাইরে আমার কোন মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। এ ব্যাপার নিয়ে আমি তখনি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার (আধা দাপ্তরিক বা ডেমি অফিসিয়াল লেটার) দিয়েছিলাম।
আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ডেলিগেশনে মিটিং শেষে আমি প্রস্তাব করেছি । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় বা সরকার চিন্তা করছে কি করে আমাদের আকাংখা পুরণে জেলখানা এখান থেকে স্থানান্তর করতে পারে। ইতোমধ্যে যে বিরাজমান অকার্যকারিতা আছে সেটার ব্যাপারে কি ফয়সালা করা যায় সেটা স্বরাষ্ট্র সচিব নিজেই শুনেছেন এ ব্যাপারে তিনি জানাবেন। কুমিল্লা কারাগার এখান থেকে অন্যত্র সরানোর ব্যাপারটি সরকারের সুবিচনাধীন আছে।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার সক্রিয়ভাবে যে কারাগার স্থানান্তরের চিন্তা করেছেন ব্যাপারটি আমাদেরকে আশাবাদী করেছে। আমরা মনে করি এখন পর্যন্ত বর্তমান সমস্যা সমাধান- কারাগার অন্যত্র স্থানান্তর। সেটি হতে পারে গোমতির উত্তর পাড়ে। প্রাথমিকভাবে উত্তরপাড় বাছাই করেছি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দও বাছাই করবেন দেখবেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের প্রাচীর পূর্ববর্তী স্থানেই নির্মাণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে এর
যৌক্তিকতা তুলে ধরেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, দৈনিক কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন, সময় টিভির সাংবাদিক বাহার উদ্দিন রায়হান, ব্যবসায়ী মাইনুল হাসান রিপন এবং এনসিপি নেতা মাসুমুল বারী কাউসার।
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সচিববৃন্দ এবং কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।