শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
প্রেমের টানে ইউক্রেনের নারী কুমিল্লায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে কুমিল্লায় ডিবির অভিযানে দুইজন গ্রেফতার ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে ডেকে পুলিশের ওপর হামলা মনোহরগঞ্জে পিতার বসত ঘরে আগুন দিলো মাদকসেবি ছেলে শতবর্ষী সামিত্রী দাসের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিল আবুল হাসেম ফাউন্ডেশন রাজশাহীতে ৪০, ঢাকায় ৯০ টাকা—একই আমের দামে কেন এত ব্যবধান? বিকেলে ফখরুলের বক্তব্য, রাতে কারামুক্ত আইভী—প্রশ্ন তুললেন হানিফ ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১ জন হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্কের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের টানা ১৬ দিনের ছুটি শেষে ৭ জুন খুলছে স্কুল-কলেজ স্থানান্তর হতে পারে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকার পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে : প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে গাদাগাদি, ফাঁকা পরে আছে ১ শ’ শয্যা শিশু হাসপাতাল ভবন

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ জায়গা সংকুল না হওয়ায় এবং শয্যা সংকটে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ কর্তৃপক্ষ। হাম সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কুমিল্লা ও আশেপাশের জেলা থেকে আসা শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে দ্বিগুণ। সাধারণ ওয়ার্ড এর পাশাপাশি তিনটি আইসোলেশন ওয়ার্ড নতুন করার পরও বারান্দায় ঠাঁই নিতে হচ্ছে হামে সংক্রমিত শিশু রোগীদের। একদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জায়গা সংকুলান নিয়ে যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে শিশুদের জন্য নির্মাণ করা ১শ শয্য বিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল ভবন দেড় বছরের বেশি সময় পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগ ও কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দায়িত্ব নেয়ার ঠেলাঠেলিতে হাম সংক্রমনের জরুরী সময় এসেও চালু করা যায়নি হাসপাতালটি। তবে জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জনবল ও যন্ত্রপাতির জন্য জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।

৬ এপ্রিল সোমবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতাল ভবনের নিচ তলায় একটি ও দো তলায় মোট তিনটি কক্ষকে হাম সংক্রমিত এবং উপসর্গ পাওয়া শিশুদের জন্য আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। তিনটি কক্ষে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুরের অন্তত ৩২ জন শিশু রোগী ভর্তি রয়েছেন। জায়গা সংকুলান না হয় বেশ কয়েকজন রোগীকে আইসোলেশন ইউনিটের বারান্দায় চাটাই পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কেউ আবার আইসোলেশন ইউনিটের মেঝেতেই পেতেছেন বিছানা। যেখানে একটি আইসোলেশন ইউনিটে রোগীদের নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকার কথা সেখানে খুবই নিরুপায় হয়ে গাদাগাদি করেই চিকিৎসার জন্য পড়ে আছেন শিশু এবং স্বজনরা।

হামে আক্রান্ত ৬ মাস বয়সী শিশু আয়াতের মা ফারজানা আক্তার বলেন, চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন তারা। হামে আক্রান্ত শিশু আয়াতকে ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। রোগীর অবস্থার সংকটাপন্ন হওয়ায় চাঁদপুর জেলায় ভেন্টিলেশন এর সুবিধা না থাকায় কুমিল্লা পাঠানো হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থেকে আসা হামে আক্রান্ত পাঁচ মাস বয়সী শিশু রাজুর বাবা সুখেন দাশ বলেন, নবীনগর থেকে ডাক্তার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে কিন্তু এখানে এসে কোন সিট পাইনি। তাই বারান্দাতেই চিকিৎসা নিচ্ছি। শুনেছি আশেপাশের এলাকার মধ্যে এখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, হাসপাতালটিতে শিশুর রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ বেডের বিপরীতে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন অন্তত তিনগুণ রোগে থাকে। হাম সংক্রমনের পর থেকে এ রোগের চাপ বেড়েছে আরো দ্বিগুণ। তুলনামূলক ভালো চিকিৎসা হয় বিধায় বৃহত্তর কুমিল্লা ও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের সংক্রমিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা এখানেই আসে।

ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বেলতলীতে ১ শ শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা গেলে সেখানে শিশু রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত। বিশেষ করে সংক্রমিত রোগের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করতেই সুবিধা হত। এছাড়া শিশুরা একই ছাদের নিচে সব ধরনের চিকিৎসা সেখান থেকে পেতো। আর আমাদেরকেও এখানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিমশিম খেতে হতো না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বেলতলীতে গিয়ে দেখা গেছে, ১০০ শয্যা শিশু হাসপাতাল ভবন পুরোপুরি প্রস্তুত। চকচকে হাসপাতালটিতে নেই চিকিৎসক, নার্স, আসবাবপত্র এবং যন্ত্রপাতি। নির্মাণের প্রায় দুই বছর হতে চললেও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগ নাকি কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয় কে নেবে হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্ব এমন ঠেলাঠেলিতে চালু করা সম্ভব হয়নি হাসপাতালটি। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ঠিক সময়ে দায়িত্ব নিলে হাম সংক্রমনের এই জরুরী সময়ে হাসপাতালটি এই অঞ্চলের শিশু রোগীদের জন্য অন্যতম আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে সেবা দিতে পারতো।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারে প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালের ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বেলতলীতে শয্যা বিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালে তিন একর জমির উপর কাজ শেষ হয় হাসপাতালের তিন তলা ভবনের, ৬ তলা ও ৩ তলা দুইটি কোয়ার্টার এবং দুই তলা গ্যারেজের।

প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা দেড় বছর আগেই হাসপাতালটি হস্তান্তর করতে চেয়েছি। কিন্তু দায়িত্ব কে নিবে এই জটিলতায় এখনো হাসপাতালে জন্য জনবল, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র বরাদ্দ যাওয়া হয়নি। না হয় এতদিনে হাসপাতালটি ব্যবহার উপযোগী হয়ে চালু হয়ে যেত। তবে সবশেষে দায়িত্ব নিয়েছে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুর বিভাগকে বলা হয়েছিল হাসপাতালটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য কিন্তু তারা বলেছে তাদের পক্ষে সেটি সম্ভব নয়। পরে আমাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আমি স্বার্থ প্রকৌশলের সাথে কথা বলেছি -তাদের অল্প কিছু কাজ এবং বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে। ঠিকাদার থেকে তারা এখনো বুঝে পায়নি বলে জানিয়েছেন।

সিভিল সার্জন জানান, হাসপাতালটিতে এখনো আরবা পত্র এবং যন্ত্রপাতি আসেনি। জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিলে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করতে পারব।