রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সিদ্ধান্ত দেবে ইসি ঢাকা-রংপুর লংমার্চ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক টিকিট কেটেও ক্যারিবিয়ান বিমানে ওঠা হলো না সাইমের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনের সময় আজ রাত ৮টায় শেষ হচ্ছে, ফল ১৬ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ায় একটি সামুদ্রিক জাহাজ নিখোঁজ ২৪০ যাত্রী নিয়ে জরুরী মানবিক সাহায্যের আবেদন : বাঁচতে চান আব্দুল বারেক কোকোর নামে সারা দেশে আয়োজন করা হবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে ইয়েমেনের হুথিদের মিসাইল ও ড্রোন হামলা পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮ কন্টেইনার বা ৮২ টিইইউস হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড কুমিল্লায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ছিনতাই ও মাদকে জড়িত ১৯ জন গ্রেপ্তার দেশের প্রয়োজনে ছাত্রসমাজকে কাজ করতে হবে, তবে লেখাপড়া ছেড়ে নয় : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য মার্কিন ‘পাহারাদারের’ কোনো প্রয়োজন নেই : ইরানের প্রেসিডেন্ট অনূর্ধ্ব-২০ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে চায়নিজ তাইপেকে হারিয়ে সপ্তম বাংলাদেশ

দেশে সাক্ষরতার হার বাড়লেও পৌনে ৪ কোটি মানুষ নিরক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশে উন্নীত হলেও এখনো নিরক্ষর রয়েছে প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। অর্থাৎ সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ এখনো সাক্ষরতার বাইরে।

আর নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন। বিসিএসের তথ্যের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে চার কোটি বলে জানিয়েছে।

সরকারি সংজ্ঞায় সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন বা নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাতৃভাষায় পড়তে ও তা অনুধাবন করতে পারা, মৌখিক ও লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারা, যোগাযোগ স্থাপন এবং গণনা করতে পারার সক্ষমতাকেও সাক্ষরতার আওতায় ধরা হয়।

এদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার সরকারি লক্ষ্যের সামনে বিপুল এই জনগোষ্ঠী বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাবিদরাও বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা জরুরি। এরপর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের সাক্ষরতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে অগ্রগতি করেছে। তবে এখনো প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ নিরক্ষর থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। এরপর এলাকাভেদে বড় ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

এমন বাস্তবতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ (লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপেরিটি)।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

এছাড়া, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।