বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক সই হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন অনেক মাঠ রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এগুলো ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারবে বিবেচনায় ধানমন্ডির দুটি মাঠ তাদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই মাঠগুলোর মধ্যে যদি মাল্টিপারপাস স্পোর্টস কমপ্লেক্স হয়, প্রতিটি এলাকার মানুষ, বিশেষ করে যুবক ও বাচ্চারা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সুবিধা পাবে। মাঠগুলোর সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকাসহ শহরগুলোতে পর্যাপ্ত মাঠ নেই। তাই একটি খেলায় সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সুবিধা নিয়ে স্পোর্টস কমপ্লেক্স তৈরি করা হলে মাঠগুলোর ব্যবহার বাড়বে এবং মানুষ বেশি উপকৃত হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, ধানমন্ডি মাঠ ও আবাহনী মাঠকে কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ধানমন্ডি মাঠে থাকা অবকাঠামোর সঙ্গে নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আবাহনী মাঠ এবং ধানমন্ডি মাঠে ফুটসাল, প্যাডেল, শুটিং, আর্চারি এবং ছোট হকি টার্ফসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠ উন্নয়নের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণের পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ভালো অবকাঠামোও নষ্ট হয়ে যায়। তাই যাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাদের মাঠ ও অবকাঠামোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, মাঠগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিশেষ ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সাধারণ মানুষ যেন খেলাধুলা করতে পারে, সেই সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, খেলার মাঠের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। খেলার মাঠ থাকবে, বাচ্চারা খেলবে, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।
আবাহনী মাঠের সঙ্গে আগের চুক্তি বাতিলের বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জানান, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সালামি পরিশোধ না করা, চুক্তির অন্যান্য শর্ত পূরণ না করা এবং অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে মন্ত্রণালয় ও রাজউকের অনুমোদন নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের না জানিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ এবং সেগুলো বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, আবাহনী মাঠে বিদ্যমান অবকাঠামো ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা নেই। সেগুলো রেখে কীভাবে সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে মাঠটি আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্ট্রাকচারটা আছে, সেটাকে রেখেই আমরা সামনের দিকে এগোবো এবং এটাকে আমরা ভাঙবো না। না ভেঙে এটাকে কীভাবে ইউটিলাইজ করতে পারি, সে বিষয়ে এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আবাহনী ও ধানমন্ডি ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে মাঠ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আজকের এই সমঝোতা স্মারক কেবল দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা নয়, বরং এটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠসমূহকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং জনকল্যাণে ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, মাঠগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও তরুণরা যেন নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলার সুযোগ পায়, সেটিই লক্ষ্য। পাশাপাশি নারী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, বর্তমান সরকারের যে ইশতেহার বা মেনিফেস্টো আছে, সেই মেনিফেস্টোতে আমাদের প্রত্যেকটি সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ সংরক্ষণ এবং এগুলোকে উন্নয়নের জন্য আমাদের ম্যান্ডেট দেওয়া আছে। সেটার ধারাবাহিকতায় আজ এই সমঝোতা স্মারক হচ্ছে।