শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
আমরা সবাই মিলে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী অবশেষে চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানীতে ১১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ : ধর্মমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শব্দের আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ না লেখার সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন শুরু বিরোধী দলের নানা আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস ইউরোপে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয়ের আবেদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি এশিয়া কাপ হকিতে জাপানের বিপক্ষে লড়াই করে হারল বাংলাদেশ চট্টগ্রামের পাচারের উদ্দেশ্যে কার্গো বোটে স্থানান্তরের সময় ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ২ দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিমানবন্দরে সাত যাত্রীর ব্যাগে পাওয়া গেল সাড়ে ৩৮ লিটার বিদেশি মদ ভার‌তে ব্রিকস স‌ম্মেল‌নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না : হুমায়ুন কবির মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী অংশ গ্রহণ করতে পারবে অভিনয়ে অনন্য ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান

অভিনয়ে অনন্য ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান

বিনোদন ডেস্কঃ বাংলা চলচ্চিত্রে কিছু মুখ সময় পেরিয়েও দর্শকের স্মৃতি থেকে মুছে যায় না। চরিত্রের বৈচিত্র্য, অভিনয়ের স্বতন্ত্র ধরন আর সংলাপ উপস্থাপনের নিজস্ব ভঙ্গিতে তেমনই এক অবিস্মরণীয় নাম এটিএম শামসুজ্জামান। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা কিংবা পার্শ্বচরিত্র যে ভূমিকাতেই হাজির হয়েছেন, নিজের অভিনয়গুণে সেটিকে করে তুলেছেন আলাদা। আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ফিরে দেখা যায় তার দীর্ঘ ও বর্ণিল চলচ্চিত্রজীবন।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, যিনি এটিএম শামসুজ্জামান নামে সর্বাধিক পরিচিত। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটের বড়বাড়ি। ঢাকায় তাদের বসবাস ছিল দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। তার বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন খ্যাতনামা উকিল এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। মা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। পগোজ স্কুলে তার সহপাঠী ছিলেন আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র। পরে ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন।

চলচ্চিত্রে এটিএম শামসুজ্জামানের পথচলা শুরু হয় ১৯৬৫ সালে ‘নয়া জিন্দগানী’ ছবির মাধ্যমে। যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি। এরপর ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘এতটুকু আশা’ চলচ্চিত্রে খবরের কাগজ বিক্রেতার চরিত্রে প্রথমবার পর্দায় দেখা যায় তাঁকে। এরপর ‘সুয়োরাণী দুয়োরাণী’, ‘মলুয়া’ ও ‘বড় বউ’সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। ‘মলুয়া’ ছবির সংলাপও লিখেছিলেন তিনি।

শুধু অভিনেতা নন, একজন দক্ষ কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন এটিএম শামসুজ্জামান। ১৯৭১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখেন তিনি। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ছবিটির মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় অভিনেতা ফারুকের।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত ‘ওরা ১১ জন’ এবং জীবনীভিত্তিক ‘লালন ফকির’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। ‘লালন ফকির’-এ অভিনয়ের জন্য প্রথম বাচসাস পুরস্কারে বিশেষ সম্মান পান। পরে ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে খল চরিত্রে এবং ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। খলনায়কের পাশাপাশি কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও দর্শকের মনে জায়গা করে নেন এটিএম শামসুজ্জামান। ‘যাদুর বাঁশি’ ও ‘রামের সুমতি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাঁর কৌতুক অভিনয় দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে।

১৯৮৭ সালে নিজের লেখা কাহিনির ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। একই কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার বিভাগে বাচসাস পুরস্কারও পান। পরবর্তী সময়ে ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

২০০৫ সালে জহির রায়হানের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রে মকবুল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। একই বছর নিজের লেখা কাহিনিতে সালাউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ ছবিতে গাজী এবাদত মোল্লা চরিত্রে অভিনয় করে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতার সম্মান পান। পরে ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ছবিতে অভিনয়ের জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতার স্বীকৃতি অর্জন করেন।

চলচ্চিত্র পরিচালনাতেও হাতেখড়ি হয় তার। ২০০৯ সালে শাবনূর ও রিয়াজ অভিনীত ‘এবাদত’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। এরপর ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশেষ সম্মাননা এবং ‘চোরাবালি’তে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রের অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

ব্যক্তিজীবনে এটিএম শামসুজ্জামানের স্ত্রী ছিলেন রুনী জামান। তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। জীবনের এক পর্যায়ে পরিবারের করুণ ঘটনাও তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ২০১২ সালে তার ছোট ছেলে এটিএম খলিকুজ্জামান কুশলের হাতে বড় ছেলে এটিএম কামালুজ্জামান কবির নিহত হন। ঘটনার পর নিজেই ছোট ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন এটিএম শামসুজ্জামান।