সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষা, প্রযুক্তিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান : রাষ্ট্রপতির এশিয়ান গেমসে ঋতুপর্ণাদের জালে উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচনে আসছে নতুন নিয়ম বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পেছালো শিল্প কারখানায় মঙ্গলবার থেকে জ্বালানি সংকট কাটতে শুরু করবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন : ইসি মাছউদ মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ অন্তত ৫৫ জন আহত আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও বিল সাবমিটের নির্দেশ ইয়েমেন হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন স্থাপনায় ৪ ঘণ্টায় ৫৮টি বিমান অভিযান চালিয়েছে সৌদি আগামীকাল ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ ৭ নেতার মামলার রায় কুমিল্লায় এক মাসে খুন, চুরি ও মাদক অপরাধে ৫৮৫ মামলা এশিয়ান গেমসের আগে অনুশীলনে শান্তদের জন্য ‘ড্রপ ইন উইকেট’ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিএমপির অভিযানে আওয়ামী লীগের ৩২ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার তারা দেশের মানুষের সাথে বার বার প্রতারণা করেছে : রুহুল কবির রিজভী নাঙ্গলকোটে সোনালী লাইফের গ্রাহকের মৃত্যুদাবির চেক হস্তান্তর ও দোয়া মাহফিল,

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন ২৫০ কোটি টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকঃ সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রায় ৬ হাজার গ্রাহক ২৫০ কোটি টাকা ফেরত পেয়েছেন।

প্রথম দিনে বড় ধরনের কোনো জটিলতার খবরও পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন জমা পড়ে।

১ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনেই ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা ফেরতের চাহিদা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিনে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং শেষ দিন ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করা হয়।

প্রথম দিন যারা টাকা ফেরতের আবেদন করেছিলেন, তাদের গতকাল ব্যাংকে আসতে বলা হয়। তবে তাদের একটি অংশ ব্যাংকে এসে টাকা নেননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, আপাতত আমানত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, মেয়াদি আমানতের টাকা এখন তুলে নিলে মুনাফা পাওয়া যাবে না। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আমানত নিরাপদ থাকার আশ্বাস পাওয়ার পর অনেকে আবেদন প্রত্যাহার করেছেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করা সব গ্রাহকের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে প্রথম দিনে সবাই টাকা নিতে আসেননি। অনেক গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমানত চালু রাখার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ টাকা তুলে কিছুক্ষণ পরই তা আবার ব্যাংকে জমা করেছেন।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার গ্রাহক মশিউর রহমান বলেন, তিনি টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এখন টাকা তুললে মুনাফা পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি আমানত নিরাপদ থাকার বিষয়েও তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তাই তিনি আবেদন প্রত্যাহার করে টাকা মেয়াদি হওয়ার পর মুনাফাসহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখার গ্রাহক মোহাম্মদ শাহাদাত বলেন, বাবার চিকিৎসার জন্য তার টাকার প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘদিন টাকা তুলতে না পেরে ভোগান্তিতে ছিলেন। প্রথম দিন আবেদন করার পর সোমবার টাকা ফেরত পেয়েছেন। এতে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

এদিকে, এক্সিম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় কিছু গ্রাহক টাকা তুললেও অনেকে মুনাফার বিষয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

টাকা ফেরতের পাশাপাশি ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু করেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর ব্যাংকটির কার্যক্রমে কিছুটা গতি ফিরেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে, মেয়াদি আমানতের পুরো মূল টাকা এককালীন তুলে নিলে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে এবং কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, যারা এখনই টাকা তুলবেন না এবং আমানত চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন। ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে মুনাফাসহ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

চরম অনিয়ম ও ঋণ জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার আমানত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবেই রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।