নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কুমিল্লার বরুড়ায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৮ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়াও বেশকিছু বস্তাবন্দি অবস্থায় মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, মাদকদ্রব্য ধ্বংসের পর বিজিবি এসব ফেনসিডিল ও মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষ সেখানে ফেলে গেছেন। তবে বিজিবির দাবি, মাদক ধ্বংসের সময় কোনো পরিপূর্ণ বোতল থাকার সুযোগ নেই। পুলিশের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
তবে এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা বলছেন একসাথে বস্তাবন্দি এতো মাদক আগে কখনও দেখেননি।
রোববার দিবাগত মধ্যরাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরুড়া উপজেলার মুগুজী ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। একটি বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ও একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে আংশিক মাটিচাপা অবস্থায় বস্তাগুলো পাওয়া যায়। পরে সেগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
উদ্ধার করা ১৮ বস্তায় অন্তত পাঁচ হাজার ফেনসিডিল ভর্তি বোতল পাওয়া যায়। এছাড়া ফেনসিডিল ও ভারতীয় স্কাফ সিরাপসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বরুড়া থানার ওসি সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, উদ্ধার করা ফেনসিডিলের বোতলগুলোর অনেকগুলোতে থেতলানোর চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকদ্রব্যগুলো ধ্বংস করার জন্য কোনো একসময় বুলডোজার বা ভারী যন্ত্র দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেগুলো বস্তাবন্দি করে ওই এলাকায় ফেলে রাখা হয়।
ওসি আরো বলেন, ১৮ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বোতলগুলো গণনা শেষে উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিলের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। এরপর এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে পুলিশের ধারণাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে কুমিল্লা-১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, মাদকদ্রব্য ধ্বংসের সময় গাঁজা, ফেনসিডিলসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মাদকদ্রব্য রোলার ও ইটভাঙা মেশিনের সাহায্যে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়। ফলে কোনো পরিপূর্ণ বোতল সেখানে থাকার কথা নয়। পুলিশের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ সুপার তাঁকে জানিয়েছেন, থানা পুলিশ কিছু বস্তাবন্দি মাদকদ্রব্যের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে। প্লাস্টিক পোড়ানোর ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকায় মাদকদ্রব্য সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস নিশ্চিত করার পর মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।